আ.লীগের চেয়ে বড় সন্ত্রাসী দল বিশ্বের কোথাও নেই : গণমিছিলে বিএনপি নেতারা

0
Array

জনগণের ক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেন, আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দল বিশ্বের কোথাও আর নেই। আগে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করত গুলি করে, গুম করে। আর এখন হত্যা করে পিটিয়ে, জেলখানায় আটকে রেখে, খাবার না দিয়ে এবং বিনা চিকিৎসায়। অনেক দেনা বাড়িয়েছেন, আর নয়। এখন নেতাকর্মীরা মৃত্যুকে ভয় পায় না। মরণের শপথ নিয়ে তারা মাঠে নেমেছেন। বিএনপিকে আর দমন করা যাবে না।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টন ও শ্যামলীতে পৃথক পদযাত্রাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলটির সিনিয়র নেতারা এসব কথা বলেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবারও সব মহানগরে একই কর্মসূচি কালো পতাকা গণমিছিল করবে বিএনপি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে নয়াপল্টনে কালো পতাকা গণমিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে দেশের মানুষকে পঙ্গু বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। খুন-গুম করে রাজনৈতিকভাবে দেশের মানুষকে পঙ্গু বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। এই সরকার পদত্যাগ না করলে এই দেশের মানুষ বাঁচবে না।’ বাংলাদেশ নিয়ে বহু দেশ মাথা ঘামাচ্ছে উল্লেখ করে ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। সরকারের সঙ্গে নয়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গেও নয়।’

শ্যামলীতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে গণমিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার আবারও ক্ষমতায় আসতে জঙ্গি নাটক শুরু করেছে। জঙ্গি নাটক এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না। সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। ওই জঙ্গি খেলা আর চলবে না। আওয়ামী লীগ নিজেরাই জঙ্গি। তাদের চাইতে বড় জঙ্গি, সন্ত্রাসী দল বিশ্বের কোথাও নেই।’

‘অবৈধ, লুটেরা, ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তিকরণ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নতুন ইসি গঠন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের একদফা দাবি’তে কালো পতাকা গণমিছিল করে বিএনপি। দুপুর ১টা থেকে কালো পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে নয়াপল্টন ও শ্যামলীর দুই স্পটে জড়ো হতে শুরু করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে কর্মসূচির প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলেন। দুপুর ২টায় প্রথমে গুঁড়িগুঁড়ি ও পরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে গণমিছিল শুরু করতে বিলম্ব হয়। দক্ষিণের গণমিছিল বিকাল সোয়া ৪টার দিকে শুরু হয়। মিছিলটি ফকিরাপুল, আরামবাগ, মতিঝিল ও রাজধানী সুপারমার্কেট হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় দয়াগঞ্জে গিয়ে শেষ হয়।

আর উত্তরের গণমিছিল শ্যামলী ক্লাব মাঠের সামনে থেকে শুরু করে শিয়া মসজিদ, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে বছিলা চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। এদিকে বিএনপির কালো পতাকা গণমিছিলকে ঘিরে সকাল থেকেই দুই স্পটের বিভিন্ন সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

দক্ষিণের কালো পতাকা গণমিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মির্জা আব্বাস আরও বলেন, এই দেশের জ্ঞানপাপী লোকদের কথা বলতে হয়। যারা দেশের জনগণের টাকায় লেখাপড়া করে আজ কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন, নিজের পরিবার-পরিজন পালন করছেন। তারা নেতাকর্মীদের গুলি করে হত্যা করছে। তারা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে বিচারের নামে প্রহসন করে জেলে ঢুকাচ্ছে। আগে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করত গুলি করে, গুম করে। আর এখন হত্যা করে পিটিয়ে, জেলখানায় আটকে রেখে।

ইতোমধ্যে জেলখানায় বেশ কয়েকজন কর্মী মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, এরা সবাই কুশিক্ষায় শিক্ষিত। এরা দেশটাকে ধ্বংসের দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশকে ভালোবাসে না। ভালোবাসে টাকা। এই লোকগুলো টাকা-পয়সা, ধনসম্পদ লুট করে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা এখন মৃত্যুর ভয় করি না। বন্দুক তাক করার চেষ্টা করবেন না। আপনাদের বন্দুকের গুলিতে কেউ পিছু হটবে না।

দেশে সরকারের গুম-খুনের বিরুদ্ধে সোচ্চার বিদেশিদের ধন্যবাদ জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদ ও আ ন ম সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে ছিলেন-কেন্দ্রীয় নেতা বরকতউল্লা বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরাফত আলী সপু, আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, মহানগর দক্ষিণের ইশরাক হোসেন, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের রাদেশ ইকবাল খান প্রমুখ।

উত্তরের কালো পতাকা গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে আমির খসরু প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সমালোচনা করে বলেন, শেখ হাসিনা দক্ষিণ আফ্রিকায় দলবল নিয়ে গেছেন, পরিবারের লোক নিয়ে দেশের টাকা খরচ করেছেন। ব্রিকস একটি অফিশিয়ালি ছবি প্রকাশ করেছে। ব্রিকসের ওখানে সদস্য হোক আর না হোক সবাই ছবি তুলেছেন। অথচ সেখানে প্রধানমন্ত্রী নেই। মিথ্যাচারের রাজনীতি আর বাংলাদেশে চলবে না।

আমির খসরু বলেন, প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন জনগণের টাকা খরচ করে, ব্রিকসের সদস্য হতে, তা পারেননি। সেখানে গিয়ে নৌকায় ভোট চাইছেন এবং বিএনপিকে গালাগাল করছেন। এদিক-ওদিক গিয়ে কাজ হবে না। তৃতীয় কোনো দেশে গিয়ে বাইলেটারাল (দ্বিপক্ষীয়) মিটিং হয় না।

অবৈধ সরকারকে বহির্বিশ্ব প্রত্যাখ্যান করছে জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের দ্বারে গিয়ে ঘুরে ঘুরে জনপ্রিয়তা পাবেন না। যেখানেই দাওয়াত পান সেখানেই দৌড় দেন, আগেপিছে তাকান না।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সবার কাছে বার্তা, দেওয়ালের লিখন পড়তে শিখুন। সিদ্ধান্ত নেন, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেবেন না। আর নিলে সেই দায়-দ্বায়িত্ব আপনাদের।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবদীন ফারুক, জয়নুল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), জহিরুল হক শাহাজাদা মিয়া, আতাউর রহমান ঢালী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শামা ওবায়েদ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, নায়াবা ইউসুফ, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, ছাত্রদলের সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

About Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat