আওয়ামী লীগ অগ্নিসন্ত্রাস করে বিএনপির ওপর চাপিয়ে দেয় : রিজভী

0
Array

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দেশে ‘অগ্নিসন্ত্রাসের জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রধান বিরোধী দল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘অপরাধ করে তারা, আর চাপিয়ে দেয় বিএনপির লোকজনের ওপর।’মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে ভার্চুয়ালি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ‘ইতিহাস এই সাক্ষ্য দেয় যে, আগুনসন্ত্রাস, ধ্বংসযজ্ঞ, গুম-খুন-ভাংচুর, সহিংসতার আঁতুরঘর আওয়ামী লীগ। তারাই দেশে অগ্নিসন্ত্রাসের জনক। আওয়ামী লীগ তাদের দুঃশাসনে পিষ্ট প্রতিবাদী মানুষকে নিশ্চিহ্ন এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ করতে বরাবরই দলীয় ও রাষ্ট্রশক্তিকে দিয়ে সন্ত্রাস-নাশকতার চালিয়ে আসছে। অগ্নিসন্ত্রাস শব্দটিকে ব্যবহার করে বিএনপির ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অপরাধ করে তারা, আর চাপিয়ে দেয় বিএনপির লোকজনের ওপর। বিএনপি সব সময়ই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘কেবল বাংলাদেশ নয়, এখন গোটা পৃথিবীবাসীই জানেন যে, আগুন দিয়ে গাড়ি পোড়ানো, সহিংসতা, গান পাউডার দিয়ে, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আওয়ামী লীগ। এবারো এক দফার সংগ্রাম বানচাল করতে পুলিশের প্রটেকশনে আগুন সন্ত্রাসে আওয়ামী ক্যাডারদের অংশগ্রহণ দৃশ্যমান। যেমনটা তারা ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে করেছে, বিভিন্ন সময় যেমন করেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা গুলি খাচ্ছে, রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতন ভোগ করছে।‘

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর মাতুয়াইলে জনগণের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আওয়ামী আগুনসন্ত্রাসীরা মুখোশ পরে বাসের ড্রাইভারের সামনেই আগুন দিয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘ড্রাইভারও বলেছেন, ১০ হাত দূরে পুলিশ ছিল, তাকে (ড্রাইভারকে) বলছে তাড়াতাড়ি নেমে যা, নাহলে তোকেসহ আগুন লাগিয়ে দিব। গত ২ নভেম্বর অবরোধ চলাকালে ফেনীর লালপুলে মহাসড়কে চিনিভর্তি ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সদর উপজেলাধীন ধলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি নুর উদ্দিন টিপুকে গ্রেফতারে প্রমাণিত হয় অতীতের মতো আওয়ামী লীগ আগুনসন্ত্রাস, নাশকতা করে বিএনপির ওপর দায় চাপাচ্ছে। প্রায় প্রতিটি আগুনসন্ত্রাসের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও রাষ্ট্রশক্তির সংশ্লিষ্টতার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। কোনোটা প্রকাশ হচ্ছে আবার কোনোটা ঢাকা দিয়ে রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

বিএনপির সিনিয়র এ নেতা আরো বলেন, ‘আজকে নয়, ১৯৭২ সালের পর থেকে যারা ভিন্নমত অবলম্বন করছে, যারা দেশপ্রেমিক, যারা আওয়ামী লীগের দুঃশাসন-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদেরও এভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হয়েছে সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে। তখনো আগুন লাগানো হয়েছে ঘরে, বসতবাড়িতে, কল-কারখানায়। একের পর এক পাটকল আগুনে ভস্মিভূত হয়েছে। তখনো বিরোধী দলকে নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়েছে। শেষে একচ্ছত্র ক্ষমতা হাতে নিতে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সে ঘটনাগুলো জনগণ ভুলে যাননি।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ ১৯৯১-১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। এছাড়া ২০০১-২০০৬ সাল সময়ে ১৩০ দিন হরতাল করে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে এই মাফিয়া সরকার আগুনসন্ত্রাসী বলে, অথচ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে বাংলাদেশে প্রথম বাসে আগুন দিয়ে মানুষ মারার সংস্কৃতি চালু করে আওয়ামী লীগ। ২০০৪ সালের শুক্রবার ৪ জুন হোটেল শেরাটনের সামনে বিআরটিসির যাত্রীবাহী দ্বিতল বাসে আগুন দিয়ে হত্যা করা হয় ১২ জন যাত্রীকে। পরদিন আওয়ামী লীগের হরতাল ছিল।’

রিজভী দাবি করেন, ‘২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় আন্দোলন নস্যাৎ করতে এবং বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের লোক ও গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে বাসে আগুন লাগিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরে বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপে চালকসহ ১১ যাত্রী নিহতের ঘটনাসহ বহু প্রমাণ আছে, আগুনসন্ত্রাস করেছে আওয়ামী লীগের লোকজন, কিন্তু মিথ্যা অপবাদ দিয়ে যাদের জেলে ঢুকিয়েছে, তারা বিএনপির লোক। এরকম আজগুবি ও গায়েবি মামলা কোনো সভ্য দেশের মানুষ কল্পনাও করে না।’

তার দাবি, ‘২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপির আন্দোলন দমনের নামে আওয়ামী লীগের অগ্নিসন্ত্রাসে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ। আগুনসন্ত্রাসের শিকার হয় আগুনে ঝলসানো শরীর নিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছে হাজারো মানুষ।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আমরা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে বলতে চাই, আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না। জনগণের বিরুদ্ধে বন্দুক তুলে ধরবেন না।’

আওয়ামী সন্ত্রাসের কারণে বিদেশীরাও আতঙ্কে আছেন অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার তাগিদ দেয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসকে একের পর এক হত্যার হুমকি দিচ্ছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতারা। এমনকি এই হুমকির বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে আদালতে তা খারিজ হয়ে যাচ্ছে। পিটার হাসকে পেটানোর হুমকি দেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুল হক চৌধুরী। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী হাসান ইনান পিটার হাসকে জবাই করার হুমকি দেন। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হোয়ানক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম পিটার হাসকে খুন করার হুমকি দেন। অথচ হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বিদেশীরাও আছেন চরম আতঙ্কে। এর আগেও আমেরিকান রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের ওপর হামলা হয়েছিল, সেটার কোনো বিচার আজও হয়নি। বাংলাদেশে শুধু বাংলাদেশীরা নয় বিদেশীরাও ঘৃণাদূষিত বাতাবরণের মধ্যে বসবাস করছে।’

রিজভী বলেন, ‘জনগণের দাবি উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচন করার জন্য উন্মত্ত-উদ্ভ্রান্ত হয়ে গেছে সরকার। সরকারপ্রধান আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অবৈধভাবে তফসিল দেয়ার পাঁয়তারা শুরু করেছেন। আমরা কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ার করে দিতে চাই- এই তফসিল নাটক বন্ধ করুন। আগে পদত্যাগ করুন। কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে ক্ষমতা দিন। এই দলদাস আওয়ামী নির্বাচন কমিশন বাতিল করুন। তারপর তফসিল। দাবি না মানলে পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর। এই তফসিলে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। জনগণ ৫৭ সেকেন্ডে নৌকা মার্কায় ৪৩টি সিল মারার কোনো প্রহসনের পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে হতে দিবে না।’

এ সময় সারাদেশে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনী কর্তৃক হামলা, মামলা ও গ্রেফতারের বিবরণ তুলে ধরেন রিজভী।

About Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat