বিচারের মুখোমুখি ড. ইউনূস,বিশ্বনেতাদের বিবৃতিতে পাল্টা বিবৃতির ‘রাজনীতি’

0
Array
শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বর্তমানে দেড় শতাধিক মামলা দেশের শ্রম আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যে নতুন করে আরও ১৮ জন শ্রমিকের করা মামলা যুক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ড. ইউনূসকে হয়রানি বন্ধে ১৬০ জন বিশ্বনেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলাচিঠি দিয়েছেন। এরপর এই খোলাচিঠি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় দেশে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে ১৬০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির লেখা খোলাচিঠির প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন মহল থেকে বিবৃতি আসতে শুরু করে। সরকারি দলও এ চিঠির বিপক্ষে সোচ্চার হয়। আবার বিরোধীদলগুলো চিঠির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়। এর মধ্যে খোলাচিঠির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া।
ইউনূসকে নিয়ে বিশ্বনেতাদের খোলাচিঠি বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন বিশিষ্টজনরা। রাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করার জন্য এ ধরনের চেষ্টাকে গভীর ষড়যন্ত্রের বহির্দেশীয় অংশ বলে মনে করছেন তারা। আবার পক্ষে বিবৃতিদাতারা বলছেন, ড. ইউনূসকে হয়রানি করার জন্য এসব মামলা করানো হয়েছে।
তবে এসব মামলা ও অভিযোগ নিয়ে কেউ বলছেন, ‘তিনি এত বড় অর্থনীতিবিদ, শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন, তাহলে শ্রমিকের পাওনা ঠিকমতো পরিশোধ করছেন না কেন। তিনি যদি অপরাধী না হতেন তাহলে মামলায় লড়তেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।’ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কথা বলেছেন। গত ২৯ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস থাকলে বিবৃতি ভিক্ষা করতেন না।’
ড. ইউনূসের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অধ্যাপক ইউনূস হলেন পৃথিবীতে সাতজন ব্যক্তির মধ্যে অন্যতম যিনি ‘নোবেল’, ‘ইউএস কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল’ এবং ‘ইউএস প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ পেয়েছেন। আবার ড. ইউনূসকে নিয়ে সরকারি আইন কর্মকর্তা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার বিবৃতি না দিয়েও আলোচনায়।
অধ্যাপক ইউনূসের পক্ষে-বিপক্ষে বিবৃতি
অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে নোবেল বিজয়ী ও সুপরিচিত নেতাদের বিবৃতির পর বাংলাদেশে সরকার সমর্থক পেশাজীবী একাধিক সংগঠন ওই বিবৃতির প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে। পরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়া বিবৃতি দেওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টসহ আইনজীবী সমাজ, সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস গিল্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ, কৃষিবিদ, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির মতো সংগঠন।
এদিকে ড. ইউনূসের পক্ষে গত ৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের বিএনপি-জামায়াতপন্থিসহ অন্য তিন শতাধিক আইনজীবীর সই করা বিবৃতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বর্তমান হয়রানি ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের আচরণের বিষয়ে উদ্বেগ জানান দেশের ৩৪ বিশিষ্ট ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক সব পদক্ষেপ ও একতরফা বিষোদগার বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিতে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে পাঠানো খোলা চিঠির প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টের সরকার সমর্থিতদের পক্ষে ৫ শতাধিক আইনজীবী পাল্টা বিবৃতিতে সই করেছেন।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সই করা ৫১০ আইনজীবীর এ বিবৃতি গত ১১ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক আবদুন নূর দুলাল।
বিবৃতিতে সরকার সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ও আইনজীবী সমিতির (বারের) পক্ষ থেকে সাধারণ আইনজীবীদের কাছ থেকে এসব সইয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
মামলার বর্তমান অবস্থা
ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওনার বিরুদ্ধে এখন ১৬৮টি মামলা চলমান। এর মধ্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে এ মামলা করা হয়। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ১৮টি মামলা করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলাও রয়েছে।’
ড. ইউনূসের পক্ষে বিদেশি কোনো আইনজীবী থাকছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার জানা নেই। আর বিদেশি কোনো আইনজীবী এলে দেশের বার কাউন্সিল থেকে অনুমতি নিতে হবে। যদি অনুমতি নিয়ে আসেন সেটা ভিন্ন কথা।’
বিদেশি বিবৃতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া
ড. ইউনূসকে হয়রানি বন্ধে ১৬০ জন বিশ্বনেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলাচিঠি দেন। এতে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা এ ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী যে ওনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা হলে তিনি নির্দোষ প্রমাণ হবেন।’
ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর বিবৃতি দেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৯৪ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিচার করে। বিচারাধীন মামলায় এ ধরনের বিবৃতি স্বাধীন দেশের বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ, যা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকিস্বরূপ।’
দেশি-বিদেশি বিবৃতির বিষয়ে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকট এসএম মনির জাগো নিউজকে বলেন, ‘হিলারি এবং ওবামাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যক্তি যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগে কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু কেউ যেন আবার অতি উৎসাহী না হয় সেটি দেখতে হবে। আবার কোনো স্থানে যেন আবার কোনো ধরনের ফল্ট না থাকে এটাও খেয়াল রাখার বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশি বিবৃতির পর বাংলাদেশ থেকে যে বিবৃতি সেটাও তাদের কাছে যাবে। বিচার তো হবে এভিডেন্সের ওপর ভিত্তি করে। যে মামলাগুলো আছে সবগুলোরই তো জুডিশিয়াল এভিডেন্স আছে। বিদেশিরা একটি দেশের অভ্যন্তরীণ জুডিশিয়ারি নিয়ে মন্তব্য করছেন।’ ড. ইউনূসকে নিয়ে হিলারি এবং ওবামাকে ইন্টারন্যাশনাল আইনজীবী পাঠানোর আহ্বানও জানান তিনি।
এসএম মনির বলেন, ‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা কে করেছেন? করেছেন ওনার কোম্পানির কর্মচারীরা। ওনার কর্মচারীদের করা (লেবার কোর্টে) শ্রম আদালতে মামলা চলতে পরে না মর্মে হাইকোর্টে রিট করেছে। পরে ৪৪৭ কোটি টাকা শ্রমিকদের দিয়ে কোনোমতে তিনি (ড. ইউনূস) এখান থেকে সরেছেন। এটা তো কোনো কোর্টের ভারডিক্ট (রায়) না, তিনি তো এমনিতেই দিয়েছেন। স্বেচ্ছায় প্রমাণ করেছেন এসব টাকা তার শ্রমিকরা পাবেন। একজন শ্রমিকের তিন কোটি করে টাকা।’
ড. ইউনূসকে নিয়ে দেশি-বিদেশি বিবৃতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দেশে এটা খুব কমন জিনিস, উন্নত বিশ্বে কোনোভাবেই সম্ভব না। সেটাও কিন্তু আসলে দুর্ভাগ্যক্রমে ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জাতি বিভক্ত হয়ে গেলো। পলিটিক্যাল আদর্শকে কেন্দ্র করে একটা দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হতে পারে না।’
‘দ্যাটস এ প্রবলেম। দেশটা ডিভাইডেট হয়ে গেছে। কাজেই ডিভাইডেট হওয়ার কারণে সারা পৃথিবীতেই এই যে বিবৃতি ১৬০ থেকে ৬১ বা ৭১ জন দিয়েছেন। এটাকে আমি নেগেটিভলি দেখি না। নেগেটিভলি দেখি না এই কারণে, এটা এইভাবে তারা বলে। সারা পৃথিবীতে তারা একটা পলিটিক্যাল প্রসেসে এটা বলে থাকেন। কিন্তু নৈতিকভাবে এটা গ্রহণযোগ্য না। নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না কারণ, একটা দেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা আছে। সেই বিচার ব্যবস্থায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস কিন্তু বিচারিক ধাপের প্রত্যেকটি স্টেপ পার করছেন। আমরা জানি লোয়ার কোর্ট, হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট- এগুলো পার করেই সরকারের করের ১২ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন। আর এটা যদি অন্য কোনো ব্যক্তি হতেন, এই যে ১২ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন। আজকে যদি কোনো একজন পলিটিশিয়ান ১২ কোটি টাকা জমা দিতো বা একজন সাধারণ শিক্ষক দিতেন, এটা মেডিয়াতে কীভাবে কাভারেজ দিতেন?’ বলেন তিনি।
অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, ‘ড. ইউনূসের আরও একটা ইন্টারেস্টিং বিষয়, ইন্টারেস্টিং মানে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে দেখেছেন, ইউনাইডেট কিংডম (যুক্তরাজ্য) কী পরিমাণ সোচ্চার। একজন শ্রমিক নেতা মারা গেছেন, তাদের কংগ্রেসম্যানরা বিবৃতি দিয়েছেন এবং তারা বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার নিয়ে সবসময় কথা বলেন। একই সঙ্গে রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর তারা কিন্তু আমাদের ডিএসপি সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছেন। এটা তো খুবই কন্ট্রাডিকটরি (বিতর্কিত) ও হাস্যকর। আমার কথা হচ্ছে, অযাচিতভাবে যা ইচ্ছে তাই করে, আমি কি বসে থাকবো? বিষয়টি আমি এইভাবে দেখছি। ড. ইউনূস পার্টি করতে চেয়েছেন, সরকারকে ডাউন করতে চেয়েছেন, পদ্মা ব্রিজ নিয়ে সেখানে ষড়যন্ত্র আছে। সরকারের কাছে যদি সে ধরনের কোনো উইটনেস (সাক্ষ্য-প্রমাণ) থাকে, সে কেন ধরবে না?’
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো জিনিসই কিন্তু ইন্টারেস্ট্রের বাইরে না। এই যে ১৬১ জন বিৃতি দিয়েছেন, এটা কি তাদের পলিটিক্সের বাইরে? তারা কি দেশের সমস্ত হিউম্যান রাইটস যত ভায়োলেশন এ পর্যন্ত যা হয়েছে, সবকিছু নিয়ে বিবৃতি দেন? আমরা তো কোনো দিন ২১ আগস্ট নিয়ে বিবৃতি দিতে দেখিনি। এত বড় ঘটনা, গ্রেনেড হামলা করে একটা পলিটিক্যাল পার্টিকে নিঃশেষ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমন আরও অনেক ঘটনা আছে, ওইসব ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দেন না। আমি অতন্ত ওত গুরুত্ব দেই না, এটা হচ্ছে গড় পলিটিক্যাল স্পেকটার্মের অংশ। ইন্টারেস্টবেউজড রাজনীতি। অর্থাৎ ড. ইউনূসের সঙ্গে যাদের অর্থনৈতিক বা আদর্শগত এক ধরনের সামজ্স্য আছে, তারা বিবৃতি দিচ্ছেন। আবার এখানে যারা মনে করছেন এটা সঠিক না, তারা পাল্টা বিবৃতি দিচ্ছেন। পুরো বিষয়টি বাংলাদেশের মধ্যে আমরা যেভাবে দেখছি, দুর্ভাগ্যক্রমে জাতিকে ১৯৭৫ এর পর যেভাবে বিভক্ত করা হয়ে গেছে, সে কারণে কেউ একটা বিবৃতি দিলে মেইনস্টিমের কোনো বিবৃতি এলে দেখা যায় তার পাল্টা একটা বিবৃতি। এই কালচার আমাদের রাজনীতিতে সহায়ক না।’
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘জিনিসটিকে সরকার জটিলের দিকে নিয়েছে। ওনারা একটি আবেদন জানিয়েছেন, তারা জানাতই পারেন। কিন্তু এখন যারা পাল্টাপাল্টি দিচ্ছেন (বিবৃতি) এটা কী? এখন তো আমাদের দিতেই হয়। ওনারা আগে দিয়েছেন, আমরা দিয়েছি, এখন আবার দিলাম।’
তিনি বলেন, ‘বহির্বিশ্বের নেতারা একটা আহ্বান জানিয়েছিলেন, অনুরোধ করেছিলেন। সেটি সরকার মানলে মানতো, না মানলে নেই। কিন্তু তারা কেন পাল্টা বিবৃতি দিলো? ড. ইউনূস একজন সম্মানিত ব্যক্তি। এ অবস্থায় আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। সে হিসেবে আমরা একটি বিবৃতি দিয়েছি।’
সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘একটা ইস্যুতে তারা সরকারের পক্ষ নেন। আমরা যারা সরকারের কার্যক্রমকে মনে করি হয়রানিমূলক, তাহলে আমাদের তো পাল্টা বক্তব্য থাকবে বা থাকতে পারে। এই দেশে মনে হচ্ছে যেন ড.ইউনূস আরেক খালেদা জিয়া। দুজনকেই নানাভাবে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানি করতে হবে। আর এতকিছু যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, প্রত্যেক দিনই অর্থ চলে যায়, তাদের তো কিছু হচ্ছে না। রানা প্লাজাসহ কত শ্রমিক আগুনে পুড়ে যাওয়াসহ নানা দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, তাদের তো কিছু হচ্ছে না? সরকারের প্রায়োরিটি হচ্ছে ইউনূস ও খালেদা জিয়া। দেশে ৪০ লাখের বেশি মামলা রয়েছে। সরকার তো নিজে নিজে আদালতকে ব্যবহার করছে। বিচার বিভাগকে ব্যবহার প্রকাশ্যে চলে এসেছে।’
বিবৃতির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ‘দেশে কত ঘটনা রয়েছে, ড. ইউনূসকে নিয়ে আমরা ৩০১ জন আইনজীবী বিবৃতি দিলাম। কারণ মনে হচ্ছে যে, গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে লেগে গেছে। ড. ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ অপছন্দ যে কেউ করতে পারে, প্রশ্নও থাকতে পারে। বিষয়টা হচ্ছে তিনি রবীন্দ্রনাথের পর, অমর্ত্য সেনের পর বাঙালি হিসেবে নোবেলজয়ী। সারাবিশ্বে তার একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে। এরকম মানুষকে হয়রানি করার কোনো মানে নেই। কলকারখানা নিয়ে যে মামলা হয়, দেশের মানুষ প্রথম জানলো। যেখানে কোটি কোটি টাকা পাচার হচ্ছে, সেখানে ইনকোয়েরি (তদন্ত) বন্ধ করে দেয় স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে দেওয়া রুলের ওপর হাইকোর্ট থেকে। সেখানে ইউনূসের মামলা নিয়ে সরকার আইনজীবী নিয়োগ দেয়। মানে এটা ভণ্ডামির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তাকে হয়রানি করা হচ্ছে, কারণ শীর্ষ ব্যক্তিরা তাকে পছন্দ করেন।’
তিনি বলেন, ‘অর্থপাচার, পুড়ে আহত ও নিহত গার্মেন্টস শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া। আমরা এমন অসংখ্য ঘটনা দেখেছি। সেসবের কোনো প্রতিকার নেই। অথচ কলকারখানা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কয়েকজন শ্রমিকের লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি বলে দেশের সম্মানিত ব্যক্তি ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বিবৃতি কোনো খারাপ জিনিস না, যে কেউ দিতে পারেন। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। এটাকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখছি না।’

About Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat