সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে গণতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ

0
Array

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একদফা দাবিতে গণতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকালে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব এবং সঞ্চালনা করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন- নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক এবং গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ।

আ স ম আবদুর রব সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, টালবাহানা করে লাভ নেই, আপনাদের বিদায় নিতে হবে, আপনাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। সরকারের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে ঠেকেছে। সারা পৃথিবী বলছে- বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার। আমি স্পষ্ট বলছি- সরকারকে বিদায় নিতে হবে। যদি ভদ্রভাবে যেতে না চান তবে এমন পরিস্থিতি হবে যা ভাবতেও পারবেন না। এটা ১৮ কোটি মানুষের লড়াই, এটা ভাত-কাপড়ের লড়াই, এ লড়াইয়ে জিততে হবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ড. ইউনূসকে নিয়ে সরকারের বেশি মাথা ব্যথা। আমরা এ সরকারের শঠতা, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা প্রতিহত করব, যেকোনো মূল্যে আমরা একতরফা নির্বাচন বন্ধ করব। দেশের কোটি কোটি মানুষ আপনাদের পক্ষে নাই। দেশে আইন আদালত নাই। কয়েকটি চামচা ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে কেউ নাই।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমরা যখন আন্দোলন করছি তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিদেশ থেকে ফিরে এসে আবার দিল্লিতে উড়ে গেলেন। সেখানে গিয়ে মোদির সঙ্গে মিটিং করলেন কিন্তু কোনো সংবাদমাধ্যম কোনো কিছুই প্রকাশ করতে পারল না। কী পেলাম আমরা, শুধুমাত্র একটি সেলফি (ছবি)। বর্তমানে বাজারে আগুন লেগেছে। এখন সরকার প্রতিপক্ষ বানিয়েছে ড. ইউনূসকে। এবারের লড়াইটা কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, ফ্যাসিবাদী সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার লড়াই।

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা নিয়মিত সভা করছি, মিছিল করছি জনগণকে ঐক্য করার জন্য। যারা রাজনৈতিকভাবে নির্যাতন নিপীড়ন করে বিরেধী দলকে আটকে রাখতে চায় আমাদের লাড়াই তাদের বিরুদ্ধে। সরকার এক তরফা নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে এবং বলছে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, যেটা হাস্যকর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর যে অবস্থা তৈরি করছেন তা সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক ও গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, সব রাজবন্দিসহ খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। যারা লড়াই সংগ্রামে আছি তাদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছে সরকার, তাই পুলিশ বাহিনী দিয়ে দমন নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ভাইদের বলছি- দমন নিপীড়ন বন্ধ করুন। আপনারা আওয়ামী লীগের কর্মচারী নন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমরা এই একতরফা নির্বাচন মানি না, মানব না, জীবন দিয়ে হলেও প্রতিহত ও প্রতিরোধ করব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মায়ের দুধের ওপর সন্তানের যে আধিকার, তিস্তাসহ ৫৪টি নদীর পানির ওপর বাংলাদেশের মানুষের সেই অধিকার; অথচ শেখ হাসিনা পানি নিয়ে একটি কথাও উচ্চারণ করেননি।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় নেই। এ সরকার মাফিয়াদের জন্য মাফিয়া সরকার। এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানো ছাড়া বাংলাদেশের ভবিষ্যত অন্ধকার।

তিনি আরও বলেন, এ সরকার বাইরের রাষ্ট্রগুলোর ছড়ি ঘোরানোর যে পরিবেশ তৈরি করেছে, গণতন্ত্র মঞ্চ সেখান থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনতে চায়।

গণসমাবেশ চলাকালীন প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং সমাবেশ শেষে গণমিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

About Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat