নির্বাচন সামনে রেখে নানা রকম ষড়যন্ত্র হচ্ছে : সালমান এফ রহমান

0
Array

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে নানা রকম ষড়যন্ত্র হচ্ছে। উনারা (বিএনপি) এক দফা দাবিতে ষড়যন্ত্র করছে। শেখ হাসিনার সরকারকে হটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে চায় তারা। এজন্য বলা হচ্ছে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। আমি বলবো, ষড়যন্ত্র তারা হয়ত করছে। তবে, আমি মনে করি তারা একটি স্বপ্ন দেখছে। যে স্বপ্ন তারা কখনো বাস্তবায়ন করতে পারবে না। কারণ, বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন তাদের নেই। মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়স্থ ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস-২০২৩ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদ।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

সালমান এফ রহমান বলেন, লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করা সহজ। অথচ রাজনীতি করতে চাইলে তিনি ঢাকায় আসতেন। এরপর জেলে যেতেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার রাজনীতি করতেন। সেটা না করে ওখানে আরামে বসে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি করে যে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, বিদেশিরাও পাগল না। অনেকতো বলা হচ্ছে বিদেশিরা শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেবে। আমি এখান থেকে আমার বিডা ভবনে যাব। সেখানে বড় বড় ৩৫ মার্কিন কোম্পানির প্রতিনিধি আসছে আমার সঙ্গে দেখা করতে। তারা সবাই বলে- আমরা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে চাই, বিনিয়োগ করতে চাই। যদি মার্কিন সরকার শেখ হাসিনাকে সরাতে চাইতো তাহলে তাদের দেশের বড় ব্যবসায়ীরা তো এসময় এখানে আসার কথা না।

তিনি আরও বলেন, আমরা যখন এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলি তখন তারা জানায়- তারেক রহমান আবার আসলে হাওয়া ভবন চালু হবে, তখন আমরা মারা যাব। সেদিন ব্যবসায়ীরাও খোলাভাবে বলে দিয়েছে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবার চাই। তারা (বিএনপি) জানে জনগণের কাছে তাদের কোন সমর্থন নাই। সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশে এখন আরও একটা ষড়যন্ত্র হচ্ছে যে আমরা যেন আবার পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে যাই। আমি বলতে চাই আমাদের জনগণ এতো পাগল হয়নি যে পাকিস্তানের অবস্থা দেখেও আবার পাকিস্তানের সঙ্গে মিশতে চাইবে। আমি বিশ্বাস করি এটা সম্ভব না। তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতা এমনে এমনেই আসেনি। এর জন্য অনেক ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে। এ মূল্যবান জিনিসটির জন্য বঙ্গবন্ধুকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যদি আমরা স্বাধীন না হতাম, তাহলে আমরা পাকিস্তানের অংশ থাকতাম। তখন দেখা যেত পাকিস্তানের আজ যে অবস্থা আমাদেরও সেই অবস্থা হতো।

আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু পাকিস্তান আজও পাকিস্তানই রয়ে গেছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে বড় বড় ব্যবসায়ীদের সবই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের। দেশ স্বাধীন না হলে আমাদের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো এতো বড় জায়গায় আসতে পারতো না। একই সঙ্গে স্থপতি, প্রকৌশলী, আইনজীবী, আর্মি সবাই আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে ভালো করছে। পাকিস্তানের সঙ্গে থাকলে এখানে আমাদের সংখ্যা থাকতে হাতেগোনা। আজ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে আমাদের যে প্রতিনিধি যাচ্ছে তার জন্যও প্রশংসা হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ এমন জায়গায় এসেছে তার মূলে হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা। যা সম্ভব হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার কল্যাণে আজ বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করছে। বিদেশিরাও অবাক কোন ফর্মূলায় আমাদের দেশ এতো এগিয়ে গেছে। তারা বলে আমরা যেন তাদের শেখ হাসিনার কারিশমাটিক লিডারশিপের বিষয়টি বলে যেটি ব্যবহার করে অন্যান্য অনুন্নত দেশ উন্নয়নের ধারায় ফিরতে পারে।

About Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat