ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নাম পরিবর্তন নয়, বাতিল চায় বিএনপি

0
Array

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নাম পরিবর্তন নয়, আইনটি সম্পূর্ণরূপে বাতিল চাল বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সম্পূর্ণ বাতিল চাই। এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আইন, মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে আইন, মিডিয়ার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আইন। এই আইনটা সবচাইতে নিকৃষ্ট কালো আইন স্বাধীনতার জন্যে, গণতন্ত্রের জন্যে। এটা রাখার কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুরোপুরি বাতিল চেয়েছি, কথা বলেছি, বাতিলে দাবি জানিয়েছি, সেমিনার করেছি।

গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত ৭ আগস্ট দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকে বিএনপি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’র নাম পরিবর্তন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগে ‘জনগণের সাথে প্রতারণা’র শামীল।

তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে এটা (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) নাম পরিবর্তন করে নিবর্তনমূলক আইন প্রনয়নের করার নামান্তর। তারা এটার নাম পরিবর্তন করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এগুলো হচ্ছে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা ও বিদেশীদের প্রচÐ চাপ আছে, আন্তর্জাতিকভাবে চাপ আছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে, তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করা আরকি। এটা হচ্ছে, খুব ঝড়ের মধ্যে একটা উট পাখি মাথা গুজে থাকে, ওরা ভাবছে এভাবে মানুষকে বোকা বানিয়ে খুব বুদ্ধিমানের কাজ করছে। তারা মানুষকে বোকা ভাবে। এটা কিন্তু ঠিক না। এটাতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, তাদের লক্ষ্যটা হচ্ছে একই কায়দায় তারা করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের পুরো বিষয়টা আমরা এখনো পাইনি। আমরা দেখতে চাই যে, কি এসেছে তা দেখে গণমাধ্যমে সামনে পরবর্তিতে কথা বলব। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।

সরকার আবারো যেনোতেনোভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চক্রান্ত করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখন সামনে নির্বাচন আছে। এজন্য তারা (ক্ষমতাসীনরা) একটু চেহারা পাল্টিয়ে ভদ্র লোক সাজছে। লক্ষ্য একটাই। যেনোতেনো প্রকারে, সেটা শক্তি দিয়ে হোক, যেভাবেই হোক তারা আবারও একইভাবে নির্বাচনটাকে তাদের পক্ষে নিয়ে আসতে চায়। সেভাবেই তারা নীল নকসার চক্রান্ত করছে।

তিনি বলেন, বিরোধী দল যাতে নির্বাচন করতে না পারে তার সবরকম ব্যবস্থা করছে। অর্থ্যাৎ, দেয়ার ইজ নো লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড, আমাদের নেতা-কর্মী, সিনিয়র নেতাদের আটকিয়ে রাখা, রাজনৈতিক দল হিসেবে যে কাজগুলো করার সাংবিধানিক অধিকার আমার আছে সেগুলো থেকে আমাকে বিরত রাখা এবং সবচেয়ে বড় জিনিস যেটা হচ্ছে যে, নির্বাচনটাকে সম্পূর্ণভাবে তাদের আবার ক্ষমতায় যাওয়ার পথকে প্রস্তত করার জন্য সেটা ব্যবহার করা, তারজন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা।

বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না এই সরকারের অধীনে কখনো কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। সেই কারণে আমাদের পরিস্কার কথা, পদত্যাগ করুন, সংসদ বিলুপ্ত করুন এবং একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যবস্থা করে তাদের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করুন।

একদফার নতুন কর্মসূচি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এক দফার যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি আমরা শিগগিরই হবে আবার। ২৯ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে লোকসমাগম বেশি হয়নি বলে প্রচারণা আছে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এই কথার সাথে আমি একমত নই। এই কর্মসূচিতে আমাদের প্রচুর লোক, হাজার হাজার, লক্ষ নেতা-কর্মী ছিল। পুলিশ হামলা চালিয়েছে, আপনারা নিজেরাও সব দেখেছেন। পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে, মারপিট করেছে, এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে। আপনারা দেখেছেন যে, আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্যকে পর্যন্ত ওরা কিভাবে হামলা করেছে, লাঠি পেটা করেছেন। আমাদের সিনিয়র নেতাদের পিটিয়েছে, কত জন মেরেছেন. কত আহত হয়েছে, কত গ্রেফতার হয়েছে সবই গণমাধ্যমে এসেছে।

তিনি বলেন, আমাদের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন, জেল গেটে আবার তাকে নতুন মামলা দিয়ে আটক করে রেখেছে। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এটা হচ্ছে। রাজশাহীর মিলন জামিন পেয়েছেন, জেল গেটে আবার নতুন মামলা দিয়ে তাকে আটকিয়ে রেখেছে। এটা কোন ধরনের রাষ্ট্র? কোন ধরনের প্রশাসন, কোন ধরনের শাসন ব্যবস্থা যে, আপনিই শুধুমাত্র বিরোধী রাজনীতি করার কারণে আপনার বিরুদ্ধে যে মামলা দেবে ধরে নিলাম, তারপরেও তাকে জেলে রাখার জন্য, কি করছে সরকার। হাইকোর্ট থেকে জামিনের পরও ছাড়া পাচ্ছে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেখেন কি অবস্থা? হাইকোর্টের দুইজন বিচারক কত অসহায়। সোমবার তারা বলছেন, আপনারা আনছেন (জামিনের আবেদন) দেখি। আমাদের কথাও কেউ শুনে না। আমরা আদেশ দেই যে অ্যারেস্ট করা যাবে না, অ্যারেস্ট তো করেই তারপরে আবার রিমান্ডেও পাঠায়, উনারা (বিচারকরা) বলছেন। এটা আমার কথা না, আপনারা নিশ্চয় পত্রিকায় দেখেছেন। এই একটা অবস্থায় তারা নিয়ে এসেছে। দুর্ভাগ্য আমাদের এর মধ্যেও কিছু মানুষ, কিছু বুদ্ধিজীবী, কিছু আপনাদের পত্রিকার লোকেরা তারা আবার এটাকে ডিফেন্ড করে। ডিভেন্ড করার কি আছে? এটা পরিস্কার, দিনের আলোর মতো সত্য যে, আওয়ামী লীগ একটা ফ্যাসিস্ট পার্টি, তারা এই গভর্মেন্টকে ফ্যাসিস্ট গর্ভমেন্ট হিসেবে চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষের যে অধিকারগুলো সেই অধিকারগুলো তারা সম্পূর্ণ হরণ করে নিয়েছে।

About Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat