তীব্র যানজটে ভোগান্তির ঈদযাত্রা

0
Array

গাজীপুরে অধিকাংশ পোশাক কারখানা সোমবার দুপুরে ছুটির পর সড়ক-মহাসড়কে যানজট ও জনজট সৃষ্টি হলেও পরদিন দুপুরের আগেই অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে প্রচণ্ড গরম আর থেকে থেকে যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

ফিট থাকতে সবার আগে চিনি বাদ দিন, প্রাকৃতিক ও নিরাপদ জিরোক্যাল-এর মিষ্টি স্বাদ নিন।যেকোনো মিষ্টি খাবারের রেসিপিতে থাক, প্রাকৃতিক ও নিরাপদ জিরোক্যাল-এর মিষ্টি স্বাদ

গাজীপুর মহানগর ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা, জৈনাবাজার ও গাজীপুর মহাগরের চান্দনা-চৌরাস্তা স্টেশন রোড, চেরেগালী, বোর্ডবজার, সাইবোর্ড এলাকায় সোমবার দুপুর থেকে সোমবার দিবাগত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ ছিল।

এরপর তা কমে গেলে মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। ১০টার উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের চাপ অনেকটাই স্বভাবিক হতে থাকে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমতে থাকে।

নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. শাহাদত হোসেন জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সোমবার দুপুর থেকে রাতভর যানবাহনের ধীরগতি থাকলেও মঙ্গলবার সকালে কিছুটা কমতে শুরু করে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকেও আশেপাশে যানবাহনের সারি থাকলেও থেমে থেমে যানবাহণ চলছে। বিকেলের মধ্যে হয়তো এ এবস্থা আর থাকবে না।

গাজীপুর আদালতের আইনজীবী সহকারি আব্দুল মতিন জানান, মঙ্গলবার সকালে ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে গাজীপুরের ভোগড়া এলাকা থেকে এক ঘন্টায় গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুবাড়িয়ার ছনকান্দা এলাকায় পৌঁছে যাই। রাস্তায় কোন যানজটে পড়তে হয়নি। তবে পথে কোন কোন কিছু গাড়ি যাত্রী উঠাতে গিয়ে ভিড় করতে দেখা গেছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক রুটে চলাচলকারী সৌখিন পরিবহনের চালক আবুল হোসেন বলেন, সোমবার দুপুরের পর থেকে কারখানা ছুটির পর ঘরমুখো পোশাক শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে পড়লে সড়ক-মহাসড়কে জনজট ও যানজট সৃষ্টি হয়। তা চলে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত। কিন্ত মঙ্গলবার সকাল ১০টার পরে তা কমে অনেকটাই স্বভাবিক হয়ে যায়।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তার মহানগরের এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে সোমবার দুপুরের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গাড়ির প্রচন্ড চাল ছিল। কিন্তু কোন যানজট ছিল না। মঙ্গলবার সকালে চান্দনা-চৌরাস্তা ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকামুখী গাড়ি মাঝে মধ্যেই কিছুটা জটলা তৈরি হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে ময়মনসিংহগামী গাড়ি চলাচলে কোন সমস্যা নেই।

যানজটের নিয়ন্ত্রণের কৌশল প্রয়োগ

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এবার আমাদের মূল ফোকাস ছিল রাস্তায় জ্যাম রাখা যাবে না। বিশেষ করে ময়মনসিংহমুখী আউটগোয়িং জ্যাম রাখা যাবে না। যানজট প্রবণ গাজীপুর মহানগরের চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে ময়মনসিংহগামী তথা উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনগুলো যে কোন মুল্যৈ সচল রাখার চেষ্টা করেছি। এ ছাড়া যে জায়গাগুলো কনসেন্ট্রেটেড এরিয়া অর্থাৎ যেসব এলাকায় যাত্রী গাড়িতে উঠানামা করে সেসমস্ত এলাকায় আমরা ডান পাশের লেনকে ফাকা রাখার চেষ্টা করেছি এবং বামপাশের লেনের গাড়িগুলোতে যাত্রী উঠিয়ে যথাসম্ভব দ্রুত যাত্রী উঠিয়ে দিয়ে যানবাহনগুলোকে সরিয়ে দিয়েছে।এ এলাকা দ্রুততার সঙ্গে ত্যাগ করার পরে প্রয়োজনে পরিবহণ শ্রমিকরা সড়কে অপেক্ষমান যাত্রী গাড়িতে তুলে নিয়েছে।

যাত্রীবাহী যানযাহনগুলোকে যানবাহন ও জনবহুল এলাকা টানা পাস করিয়ে দেয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে যানজট সৃষ্টি হয়নি। তবে মাঝে মধ্যে গাড়ির টেইল সৃষ্টি হলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এছাড়াও পথে চলতে গিয়ে কিছু গাড়ি নষ্ট হলে আমাদের স্থানে স্থানে অবস্থান নেয়া রেকার দিয়ে দ্রুত তা সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এর ফলে সোমবার দুপুরের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গাড়ির যে চাপ ছিল তা অতিক্রম করতে যাত্রীদের ভোগান্তি হয়নি।

অপরদিকে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে ঢাকামুখী কিছু গাড়ি চলতে গিয়ে এই এলাকায় গাড়ির কিছু চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। গাড়িগুলো ঢাকামুখী হলেও ঢাকাগামী নহে। এসব গাড়ির অধিকাংশই খালি এবং চৌরাস্তা মোড় ঘুরে ঢাকা ও টাঙ্গাইলের দিকে যাওয়ার জন্য যাত্রী তুলে। এতে এখানে কিছুটা জটলা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যানজট হয়না। এছাড়া ধীরগতির পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যানও এ এলাকা অতিক্রম করতে গিয়ে কিছুটা টেইল সৃষ্টি হচ্ছে। পণ্যবাহী ছাড়াও মহাসড়কে খালি ট্রাক চলতে দেখা গেছে, এমনকি এসব খালি ট্রাকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বহন করতে দেখা গেছে। এসময় ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, ঈদের সময় যেই পরিমান যাত্রী সেই তুলনায় আমাদের যানবাহন নাই। আবার এ রুটে অনেকে সস্তায়ও যেতে চায়। এসব গাড়িগুলোকে রাস্তার মাঝখানে সরাতে গিয়ে আবার যানজট সৃষ্টির সম্ভববনা দেখা দেয়। এ কারণে আমরা এসব গাড়িগুলো মহাসড়কে চলাচলে আমরা ওভারলুক করে যাই। আমারা দ্রুততার সঙ্গে এসব গাড়িগুলোকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি।

ঈদে নির্দিষ্ট কিছু গাড়িতে (বিলাসবহুল) অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চেষ্টা তথা প্রবণতা দেখা যায়। তবে সাধারণ গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার কোন অভিযোগ পাইনি। অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক আমরা সেখানে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে যাত্রীদেরকে ফেরত দেয়া হয়। অতিরিক্ত ভাড়া না দিতে আমরা গাড়ির যাত্রীদের লিফলেট বিতরণ করেছি এবং মালিক-শমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেছি।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. মাহবুব আলম জানান, গাজীপুরে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে পোশাকে সাদা পোশাকে আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ছাড়াও আর্মড ব্যাটেলিয়ান পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরাও কাজ করেছে। যানজট নিরসনে মোটরসাইকেল পেট্রোল টিম ছাড়াও পুলিশের বিশেষ টিম, রেকার টিম, আইপি ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোন উড়িয়ে যানজট প্রবণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তাই গাজীপুরে যানজটের জন্য তেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি যাত্রীদের। এছাড়া যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নানা কর্মসূচী নেয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরের আগ পর্যন্ত গাজীপুর মহানগরের পুরো এলাকায় মহাসড়কগুলোতে ট্রাফিক পরিস্থিতি অনেকটাই স্বভাবিক রয়েছে। তবে চান্দনা -চৌরাস্তা এলাকায় যানবাহনের চাপ কিছুটা বেশি। আশা করি বিকেলের মধ্যে এ পরিস্থিতিও অনেকটা নরমাল হয়ে যাবে।

About Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat
  • Click to Chat