Biggapon
bangla news
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন www.newspagebd.com
সর্বশেষ :
শিরোনাম :
Biggapon

বাংলাদেশের ৬৪ জেলা পরিচিতি (৪) ‘ভোলা’

2017-03-09 12:32:14

...

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের ইতিহাস বা অন্য অনেক তথ্য। পর্যায়ক্রমে আমাদের ৭টি বিভাগের ৬৪টি জেলার তথ্য জানবো আমরা।

প্রথমেই বরিশাল বিভাগের জেলাগুলো সম্পর্কে জানবো। বরিশাল বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৩ সালে। বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা এই ছয় জেলা নিয়ে বরিশাল বিভাগ। ২০০০ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন হয়। আজ আমরা ভোলা জেলার তথ্যগুলো জানবো।

'ভোলা' জেলা

ভোলার আদি নাম ছিল দক্ষিণ শাহবাজপুর। ভোলা জেলার নামকরণের পিছনে স্থায়ীভাবে একটি লোককাহিনী প্রচলিত আছে যে, ভোলা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি এখনকার মতো অপ্রশস্ত ছিল না। একসময় এটি পরিচিত ছিলো বেতুয়া নদী নামে। খেয়া নৌকার সাহায্যে নদী পারাপার করা হতো। বুড়ো এক মাঝি এখানে খেয়া নৌকার সাহায্যে লোকজন পারাপার করতো। তার নাম ছিল ভোলা গাজী পাটনী। বর্তমানে যোগীরঘোলের কাছেই তার আস্তানা ছিল। এই ভোলা গাজীর নামানুসারেই এক সময় স্থানটির নাম দেয়া হয় ভোলা। সেই থেকে এই এলাকা ভোলা নামেই পরিচিত। ভোলার অন্যান্য উপজেলাও বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয়, যেমন- দৌলতখাঁ, তজুমুদ্দি, বোরহানউদ্দিন ও লালমোহন।

ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় বদ্বীপ। বর্তমান ভোলা একসময় বৃহত্তর বরিশাল জেলার একটি মহকুমা ছিল। ১৮৫৪ সালে দ্বীপটি মহকুমায় উন্নীত হয়। ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে জেলা হয়।  চারদিকে নদী পরিবেষ্টিত এ জনপদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য আবহমান বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের মতোই। এলাকার কিংবদন্তি মসজিদ মন্দিরের স্থাপত্য ও নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন বিশে­ষণ করলে অনুমিত হয় এ জনপদ মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ বছর আগে সভ্যতার আলোয় আলোকিত হয়।

মহারাজা কন্দর্প নারায়ণের কণ্যা বিদ্যাসুন্দরী ও কমলা রাণীর দীঘির ইতিহাস এ অঞ্চলের লোকসংস্কৃতির একটি অংশ। এ দীঘির কাহিনী নিয়ে সুদূর তামিলনাড়ুর নিম্নাঞ্চলে এখনও গান পরিবেশিত হয়। মেঘনা, তেঁতুলিয়াবিধৌত বঙ্গোপসাগরের উপকূলে জেগে ওঠা প্রায় ৯০ মাইল দৈর্ঘ্য ও ২৫ মাইল প্রস্থবিশিষ্ট এ ভূখণ্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- যেদিকে চোখ যায়, সব দিকে শুধু সমতল ভূমি।  ফসলের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ দেখে মানুষের মনে জেগে ওঠে বাউলের গান ও রাখালের বাঁশির মোহনীয় সুর। প্রাকৃতিক সুষমামণ্ডিত এ এলাকার গাছগাছালি, পাখির কূজন বারমাসী ফলমূল সত্যিই উল্লেখযোগ্য।

হিমালয় থেকে নেমে আসা তিনটি প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রবাহিত পলি দিয়ে মোহনায় গড়ে উঠেছে এ দ্বীপ। সমুদ্র সমতল থেকে এর গড় উচ্চতা ১২ ফুটের মতো। নৃতত্ত্ব ও ভূতত্ত্ববিদরা মনে করেন- পূর্বে মেঘনা ও পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদী বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এসে গতিবেগ হারিয়ে ফেলে। ফলে এ স্থানটিতে কালক্রমে পলি ও নদীতে বয়ে আসা বর্জ্য জমা হয়ে আজকের ভোলা নামক দ্বীপটির জন্ম।

ভোলার জন্ম খুব বেশিদিনের নয়। আনুমানিক ১২৩৫ সালের দিকে দ্বীপটি গড়ে উঠতে শুরু করে। এখানে প্রথম চর পড়া শুরু হয় ১২৩৫ সালের দিকে এবং ১৩০০ সালের দিকে চাষাবাদ শুরু হয় বলে জে. সি. জ্যাক বাকেরগঞ্জ গেজেটিয়ারে উল্লে­খ করেন। এলাকার ধান, চাল, সুপারি, নারিকেল ও অন্যান্য প্রাচুর্যে প্রলুব্ধ হয়ে একের পর এক বিদেশি শাসক ও পর্তুগিজ জলদস্যুরা এসেছে এখানে। ১৫০০ সালের দিকে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের নজর পড়ে এ দ্বীপটির ওপর। তারা দ্বীপটিকে ঘাঁটি বানিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালিয়ে যেতে থাকে। এছাড়াও আরাকানের বর্গি ও মগরা দক্ষিণ শাহবাজপুরসহ আশপাশের দ্বীপকে ঘাঁটি বানিয়ে লুটপাট চালিয়ে এ দেশের সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার করে রাখতো। এরই প্রেক্ষাপটে সম্ভবত রচিত হয়েছিলো- 'খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গি এলো দেশে, বুলবুলিতে ধান খেয়েছে, খাজনা দিবো কিসে'? ধান ফুরালো পান ফুরালো খাজনার উপায় কি? আর ক'টা দিন সবুর কর রসুন বুনেছি'- এর মতো অসংখ্য ছড়া ও কবিতা।

১৫১৭ সালে জন ডি সিলবেরা নামক জনৈক পর্তুগিজ জলদস্যু দ্বীপটি দখল করে। পর্তুগিজদের রেখে যাওয়া ভীমদর্শন কিছু রোমশ কুকুর আজও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে সেসব লোমহর্ষক অত্যাচারের কাহিনি স্মরণ করিয়ে দেয়। আর মনপুরা ছিল এদের দস্যুবৃত্তির লীলাক্ষেত্র।

১৮ শতকে দক্ষিণ শাহবাজপুর তথা ভোলার আয়তন ছিল মাত্র ২৫২ বর্গমাইল। ১৮২২ সাল পর্যন্ত শাহবাজপুর ছিল বাকেরগঞ্জ জেলার অংশ। ১৯ শতকের প্রথমভাগে মেঘনার শাখা ইলিশা ও তেঁতুলিয়া বৃহত্তর আকার ধারণ করে। ফলে ভয়ংকর কালাবদর নদী পাড়ি দিয়ে নৌপথে জেলা সদর দফতরের সাথে দক্ষিণ শাহবাজপুরের যোগাযোগ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই সরকার সিদ্বান্ত নেয় বাকেরগঞ্জ থেকে দক্ষিণ শাহবাজপুর ও হাতিয়াকে নোয়াখালীর অন্তর্ভুক্ত করার। ১৮২২ সালের ২২ এপ্রিল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দক্ষিণ শাহবাজপুরকে নোয়াখালীর অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেন এবং ওই বছর ৩ জুলাই নোয়াখালীর জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট এইচ পারকার দক্ষিণ শাহবাজপুরের দায়িত্ব বুঝে নেন। ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত ভোলা নোয়াখালীর অধীনেই ছিল।

ভোলা সংস্কৃতিতে রয়েছে মিশ্র প্রভাব। ভোলার মেঘনা তেঁতুলিয়ার তীর ঘেঁষে রয়েছে ছোট ছোট জেলে পল্লী। মাছ ধরা মৌসুমকে সামনে রেখে পল্লীর মহিলা ও শিশু কিশোররা পালাগান গেয়ে রঙবেরঙেয়ের সুতা দিয়ে জাল বোনে। এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এসব জাল টানানো হয়। তখন বাড়িতে বাড়িতে চলে উৎসব।

এখানে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও অনেক জমিদার বাড়ি সগৌরবে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। যেমন- মানিকা মিয়া বাড়ি, কুতুবা মিয়া বাড়ি, দেউলা তালুকদার বাড়ি, পরান তালুকদার বাড়ি, রজনী করের বাড়ি ইত্যাদি। তবে দৌলতখানের জমিদার কালা রায়ের বাড়ি ছিলো বিখ্যাত। তার প্রাসাদে হতো বাইজি ও ধ্রুপদি ঢঙের ওস্তাদদের গান। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এ বাড়ি। এছাড়া জাগ্রত মাজার হচ্ছে হজরত উজির চান করনীর মাজার।

ভোলায় একসময় লবণ তৈরি হতো। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি খাল দিয়ে ভোলার অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে লবণাক্ত পানি আটকিয়ে আগুনে জ্বাল দিয়ে লবণ তৈরি করা হতো। অধিকাংশ লবণ তখন তজুমদ্দিন, মির্জাকালুতে বিক্রি হতো। ব্রিটিশ সরকার লবণ কর বৃদ্ধি ও নানা বিধিনিষেধ আরাপ করায় ১৯৩০ সালে ভোলায় লবণ আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৩০ সালের ১ বৈশাখ পুলিশের গুলিতে দু'জন মারাও যায়। পরে লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলেও সে স্মৃতি আজও অম্লান হয়ে আছে।

ভোলা একটি গ্যাসসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ভোলা শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ডে এক ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ আছে। এ গ্যাস দিয়ে ভোলার চাহিদা মিটিয়েও বাইরে পাঠানো যায়। এ গ্যাস দিয়ে ইতোমধ্যেই একটি সার কারখানা স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে ৩৪.৫ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বোরহানউদ্দিন উপজেলায় প্রাপ্ত গ্যাস সম্পদকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উত্তোলনের মাধ্যমে গোটা দক্ষিণাঞ্চলকে গ্যাসের আওতায় এনে এখানে স্থাপন করা যায় একটি সার কারখানা। এছাড়াও এ গ্যাস দিয়ে ৪০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে ৩৪.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্টে এ গ্যাসের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।

ভোলা মহিষের বাথানের জন্য বিখ্যাত। ভোলার বিভিন্ন চরে অর্ধশতাধিক মহিষের বাথান আছে। এসব বাথান থেকে প্রতিদিন শত শত কেজি দুধ উৎপাদন হয় এবং এ দুধ থেকেই তৈরি হয় বিখ্যাত মহিষের দই, পনির ও ঘি। এসব ভোলার বাইরে পাঠানো হয় বিক্রির জন্য। অতিথি আপ্যায়ন ও জামাই আপ্যায়নে ভোলাবাসীর প্রথম পছন্দ এই দই ও মিষ্টি। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এ মিষ্টি ও দই উপঢৌকন হিসেবে পাঠানো হয়।

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা ছিল পর্তুগিজ দস্যুদের দখলে। পরে এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন বসতি স্থাপন করে। এখানে লম্বা কান, কেশরওয়ালা উন্নত জাতের কুকুর ছিল। এখন বিলুপ্ত প্রায়। এখানে পর্তুগিজদের তৈরি করা প্যাগোডার ধ্বংসাবশেষ এখনো রয়ে গেছে। এখানে গ্রামাঞ্চলে দাড়িয়াপাল্লা, ফুটবল, কাবাডি, হা-ডু-ডু খেলার প্রচলন ছিলো। এখনো এসব খেলা হয়। ভোলার কলঘাট এলাকায় এক সময় স্টিমার ঘাট ছিল। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন তা শুধুই স্মৃতি।

এখানকার মানুষ প্রতিনিয়তই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েও বার বার আশায় বুক বাঁধে।  সমস্যা ও সম্ভাবনার বেদীমূলে দাঁড়িয়েও স্বপ্ন দেখে ভোলাবাসী। খাদ্যে উদ্বৃত্ত ও রূপালী ইলিশসমৃদ্ধ হলেও ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের তাণ্ডবকে নিয়তির অমোঘ বিধান বলে মেনে নিয়েছে এখানকার মানুষ। তাই বলে তারা থেমে থাকেনি। একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে তারা অবিশ্রান্ত পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। এ জেলায় উৎপাদিত রূপালী ইলিশ ভোলাবাসীর চাহিদা পূর্ণ করে দেশের অন্যান্য জেলায় এমনকি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। চরফ্যাশন, তজুমুদ্দিনসহ অন্যান্য উপজেলায় উৎপাদিত বাগদা চিংড়ি চাষের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেক মৎস্যচাষি মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের সুফল বয়ে এনেছেন।

ভোলা জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো-

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল জাদুঘর : ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হাবিবুর রহমান, মা মালেকা বেগম। ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৭ সালে। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালকে ১৯৭১-এর মার্চের মাঝামাঝি সময়ে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে তাকে চতুর্থ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সদর দফতর ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে বদলি করা হয় এবং সেখান থেকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজীপুর গ্রামে ছিল মোস্তফা কামালের বাড়ি। ১৯৮২ সালে মেঘনার ভাঙন বাড়িটি কেড়ে নেয়। তখন তার পরিবার ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে চলে আসে। সেখানেই সরকার শহীদ পরিবারকে ৯২ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেয়। নির্মিত পাকা ভবনটির নাম রাখা হয়েছে শহীদ স্মরণিকা। ভবনটির সামনেই আছে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার।

চর মনপুরা : ভোলা থেকে তজুমুদ্দিন সি-ট্রাক ঘাটে যেতে হবে। সেখান থেকে বিকাল ৩টায় সি-ট্রাক দিয়ে মনপুরায় যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে আসা লঞ্চেও মনপুরা যাওয়া যায়। আথবা দিনের বিভিন্ন সময় ট্রলারযোগেও মনপুরা যাওয়া যায়। এক দশক আগে চর মনপুরায় বন্য়ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়, যা থেকে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানে পরিণত হয়। এখানে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণপ্রসাদ মেলা বসে। এছাড়া মনপুরার বিভিন্ন বনে হরিণ দেখতে পাওয়া যায়। আর মনপুরার ইলিশ খুবই সুস্বাদু।

চর কুকরি-মুকরি : ভোলার বুকে জেগে ওঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চর কুকরি-মুকরি। এটিকে দ্বীপকন্যাও বলা হয়ে থাকে। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল,বন্যপ্রাণী আর সমুদ্র সৈকতকে ঘিরে সৌন্দর্যের এক বর্ণিল উপস্থিতি যা প্রকৃতি প্রেমিক পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বছরের পুরোনো এ চরে আজও সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি।

বঙ্গোপসাগরের কুলে মেঘনা-তেঁতুলিয়ার মোহনায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বিশাল বনাঞ্চল বেষ্টিত এ দ্বীপে বিচরণ করছে অসংখ্য হরিণ, গরু-মহিষ, বানর এবং নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। যাওয়ার পথে বিস্তৃত বনায়ন মাঝে মধ্যে চিতাবাঘেরও উপস্থিতি টের পাওয়া যায় এ দ্বীপকন্যার বুকে। এখানে নিরাপদ নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা, হোটেল-মোটেলসহ আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে, তা কুয়াকাটার চেয়েও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হতে পারে। এর পাশাপাশি চর পাতিলাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পৃথক দ্বীপ।এখানেও শীতের সময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ হরিণ, বালিহাঁস মানুষের মনজুড়ানো পরিবেশের সূচনা করে। সম্প্রতি IUCN চর কুকরি-মুকরিকে বিশ্ব জীববৈচিত্র্যের স্থান হিসেবে চিহ্নিত করে।

ভোলা থেকে প্রথমে চরফ্যাশনের ক্চ্ছপিয়াতে যেতে হবে । সেখান থেকে ট্রলার, নৌকা আথবা ছোট ছোট লঞ্চ দিয়ে চর কুকরি-মুকরি যাওয়া যায়। এক দশক আগে চর কুকরি-মুকরিতেও বন্য়ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়, যা থেকে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানে পরিণত হয়। এছাড়া চর কুকরি-মুকরি বিভিন্ন বনে হরিণ দেখতে পাওয়া যায়। এখানে নারিকেল বাগান রয়েছে, যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। এখানে মেঘনা নদীর ঢেউ এমন রূপ পায়, যা দেখলে মনে হবে আপনি সাগরের কোনো সৈকতে অবস্থান করছেন।এখানে আছে বালুচর। এখানে আসলে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারবেন না, প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করবে।

দেউলি : ভোলা থেকে বাসে করে বোরহানুদ্দিন উপজেলায় যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে রিকশা অথবা অটোরিকশায় যাওয়া যায়। বোরহানুদ্দিন উপজেলার একটি প্রাচীন জনপদ হলো দেউলি। ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায় যে, এই জনপদে এক সময় রাজা জয়দেবের সময়ে বিদ্যাসুন্দরী ও তার স্বামী বসবাস করতো। দেউলির গুরিন্দাবাড়ি এরই সাক্ষ্য বহন করে দাঁড়িয়ে আছে। এ ছাড়াও দেউলিতে বিদ্যাসুন্দরী নামে একটি দীঘি রয়েছে, যার প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য অপরিসীম ।

মনপুরা ফিশারিজ লিমিটেড : ভোলা থেকে তজুমুদ্দিন সি-ট্রাক ঘাটে যেতে হবে। সেখান থেকে বিকেল ৩টায় সি-ট্রাক দিয়ে মনপুরায় যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে আসা লঞ্চেও মনপুরা যাওয়া যায় আথবা দিনের বিভিন্ন সময় ট্রলারযোগেও মনপুরা যাওয়া যায়। মনপুরা ঘাটে নেমে রিকশা অথবা অটোরিকশায় যাওয়া যায়। এই ফার্ম হাউজ ও পর্যটন অবকাশযাপন কেন্দ্রটির চিত্রা হরিণ, ডেইরি ফার্ম, পুকুর, বাগান ও নারিকেল গাছের সারিসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধায় ভোলার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

ঢাল চর : ভোলা থেকে প্রথমে চর ফ্যাশনের চর ক্চ্ছপিয়াতে যেতে হবে । সেখান থেকে ট্রলার, নৌকা আথবা ছোট ছোট লঞ্চ দিয়ে ঢাল চর যাওয়া যায়। এক দশক আগে ঢাল চর বন্য়ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়, যা থেকে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানে পরিণত হয়। এছাড়া ঢাল চর বিভিন্ন বনে হরিণ দেখতে পাওয়া যায়। ঢাল চরের দক্ষিণ দিক বঙ্গোপসাগরের সাথে মিশে একটি সৈকতের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই স্থানটির নাম হলো 'তারুয়া'। ইতোমধ্যে তারুয়া স্থানটি অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করে নিয়েছে। এখানকার কেওড়া বাগানের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখানে মেঘনা নদীর ঢেউ এমন রূপ নেয়, যা দেখলে মনে হবে আপনি সাগরের কোনো সৈকতে অবস্থান করছেন।

মনপুরা ল্যান্ডিং স্টেশন : হাজিরহাট সদর থেকে পায়ে হেঁটে মাত্র ৫ মিনিটে ল্যান্ডিং স্টেশনে যাওয়া যায়। মনপুরার শহরের প্রায় ৫০০ গজ পশ্চিমে মেঘনা নদীর কিনারায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ল্যান্ডিং স্টেশনটি। ২০০৫ সালের শেষের দিকে বরিশালস্থ মেসার্স রূপালী বিল্ডার্স ল্যান্ডিং স্টেশনের কাজ শুরু করে। যাত্রীবাহী সি-ট্রাকসহ অন্যান্য লঞ্চ-নোঙরের পাশাপাশি যাত্রীদের   ওঠানামায় দারুন সুবিধা হবে ভেবে ল্যান্ডিং ষ্টেশনটি নির্মিত হয়। কিন্তু মেঘনার প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ল্যান্ডিং স্টেশনের সামনের চারটি পিলার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একপর্যায়ে পিলারগুলো নদী থেকে উঠিয়ে পুনরায় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে কাজ শুরু করা হয়। পরবর্তীতে কাজও সম্পন্ন করা হয়। সি-ট্রাকসহ অন্যান্য যাত্রীবাহী লঞ্চ, ট্রলার পিলারের সাথে বেঁধে নোঙর করে বিশ্রাম নেয়ার জন্য এটি নির্মিত হলেও বর্তমানে সে ব্যাপারে কোনো কাজে আসছে না।

মনপুরাবাসী একদিকে নিরাশ হলেও অন্যদিকে বিকেলের আড্ডায় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন ল্যান্ডিং স্টেশনকে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে এখানে ঘুড়তে আসে। পড়ন্ত বিকেলে এখানকার আড্ডায় পর্যটনের একটি উপাদান হিসেবে বেছে নিয়েছেন সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য।

Biggapon
সব খবর

যেসব দেশে আজ উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

এবারের ঈদ জামাতে সরকারের ১৩ নির্দেশনা

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

বিশ্বে রমজান যেমন যাচ্ছে, করোনার দিনগুলোতে

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

বিশ্বে রমজান যেমন যাচ্ছে, করোনার দিনগুলোতে

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

ফিরে এসো আল্লাহর দিকে

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

তিন ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষা ৩ আগস্ট

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

মাহে রমাদান,রহমত মাগফিরাত নাজাতের সওগাত

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

 শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১ মে পবিত্র শবে বরাত

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

নতুন রূপে আসছে জিমেইল

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

আপনি প্রতিদিনই কি একটু একটু করে মরে যাচ্ছেন?

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

জেনে নিন ধোলাইখালের ইতিহাস

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

চোখে চোখ রেখে বেশিক্ষণ কথা বলা যায় না কেনো?

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

'ভারত ও ইন্ডিয়া' এক দেশের দুই নাম কেনো?

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

মাছ কেনার আগে টিপসগুলি জেনে নিন

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

সাপ সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জেনে রাখুন

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় যে 'রাষ্ট্রনায়ক'

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

বাংলাদেশের ৬৪ জেলা পরিচিতি (৪) ‘ভোলা’

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

বাংলাদেশের জেলা পরিচিতি (৩) 'বরিশাল'

আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তেমনি আমরা অনেকেই জানি না আমাদের ৬৪ জেলার নামকরণের…

সর্বশেষ

Biggapon

সম্পাদকীয়

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ। ১২ই রবিউল আউয়াল। ১৪৪২ বছর আগের এই দিনে আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩ বছর পর একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তাই মুসলিম উম্মাহ্‌র জন্য আজকের এ দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি শোকের। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী…

অনলাইন জরিপ

আজকের প্রশ্ন :

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, পাঠ্যপুস্তকে ভুলের ঘটনায় জড়িতরা সবাই শাস্তি পাবে। এটি সম্ভব হবে বলে মনে করেন কি?

Votted62 জন


Biggapon